Watch videos with subtitles in your language, upload your videos, create your own subtitles! Click here to learn more on "how to Dotsub"

20180311 03 Inamul interview

0 (0 Likes / 0 Dislikes)
আপনাকে আমি প্রশ্ন করলে আপনি প্রশ্ন টার জবাব দেবেন। আমার নাম হচ্ছে মো. এনামুল হক, আমি আমার বাড়ি হচ্ছে কক্সবাজারে, আর আমি ২৫ আগস্ট এর পর থেকে ক্যাম্পেই কাজ করছি বিভিন্ন প্রকল্পের সাথে। প্রথমে আমি কাজ শুরু করি বিভিন্ন জার্নালিস্ট দের সাথে। তো,সেই থেকে এই পর্যন্ত কাজ চলতেসে আমার। আর আমি স্টুডেন্ট পাশাপাশি এই কাজটাও আমি করে যাচ্ছি। আপনি সোয়াহ ফাউন্ডেশনের সাথে কবে থেকে কাজ করা শুরু করেছেন? আমি সোয়াহ ফাউন্ডেশনের সাথে কাজ করছি আসলে নভেম্বর থেকে, নভেম্বর এর শুরু থেকে। আসলে আমি যখন এখানে ২৫ আগস্ট এর পরে কাজ শুরু করি ক্যাম্প এ, তখন, আমার কিছু জার্নালিস্টদের সাথে পরিচয় ছিল তার মধ্যে একজন হলেন কেটি আরনল্ড। উনি আল জাজিরার কাজ করেন। তারপরে, আন্নাতায়াকিন এর সাথেও কাজ করেছি। উনিও আল জাজিরা এর সাথে কাজ করেন। তো, হঠাৎ করে একদিন, ওনারা আমাকে বলছে যে, আমরা তোমার ফেসবুক লিংক টা একজনকে পাঠিয়েছি, তোমাকে হয়তোবা নক করবে। ওইরকমভাবে একজন আমাকে হঠাৎ করে নক করলো। ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠালো আমি এক্সেপ্ট করলাম। আবার এরপরে, প্ল্যাটু চ্যাং নামে একজন চাইনিজ, উনি ইয়াংগুনে থাকেন, উনি আমাকে নক করলো। বললো যে, আমরা আপনার সাথে কাজ করতে চাচ্ছি আপনার ডিটেইলস টা একটু আমাদেরকে বলবেন? তখন আমি তাদেরকে আমার ডিটেইলস পাঠালাম। এবং পাঠানোর পরে তিনি বললেন, ঠিক আছে। আমার সাথে সোয়াহ ফাউন্ডেশন ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার একটা টিম আছে। ওনারা আপনার সাথে কাজ করতে চাচ্ছে, আপনি কি বলেন? আমি বলেছি, কোন ধরণের কাজ আপনারা করবেন? তো, তারা প্রথমে তাদের ডিটেইলস আমাকে বললো। বলার পরে আমি দেখলাম যে, ঠিক আছে, কাজটা আমার ভালো লাগলো। এভাবেই আমি তাদের সাথে কাজটা শুরু করি। আপনি যে ওদের সাথে কাজ শুরু করলেন, আপনি আগে থেকেই, এটা তো আগে থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে আপনি ওদের সাথে কাজ করতে চেয়েছেন। ওদের কাজের ব্যাপারে, কোন জিনিসটা আপনার মনে হয়েছে যে, আমি এইজন্য কাজটা করবো? আসলে আমি যখন কাজ শুরু করে দেখলাম, প্রথমে আমি জার্নালিস্টদের সাথে কাজ করেছি। এদের সাথে কাজ করার পরে আমি একটা ডিফারেন্স খুঁজে পেয়েছি। এটি হচ্ছে, এই যে, জার্নালিস্টরা যে কাজগুলো করে, তাৎক্ষণিকভাবে লেখে হয়তোবা সেটা ওয়ার্ল্ড কে জানাচ্ছে, বাট বিভিন্ন জার্নালিস্ট বিভিন্ন অ্যাংগেল থেকে নিউজ গুলো করে। যে, মনে করেন তাদের স্যানিটেশন প্রব্লেম, সেটা নিয়ে একটা জাস্ট নিউজ করলো। তারপরে তাদের এখানে থাকার যে সমস্যাগুলো, জাস্ট বিভিন্ন ডিফারেন্ট অ্যাংগেল থেকে কাজ গুলো করে। বাট আমরা এখানে রোহিংগাদের যে একটা জীবনব্যবস্থা, তাদের যে একটা অরিজিনাল লাইফ আছে, সেই হিসেবে আমরা একটা ধারণা পাইনা। সোয়াহ ফাউন্ডেশন যখন কাজ শুরু করলো দেখলাম তাদের লাইফটা কেমন ছিল ওখানে, কিভাবে তারা জীবনটা কাটিয়েছে, তারা কিন্তু ইন্টারেস্টিং কোনকিছু বের করার জন্য কোন চেষ্টা করেনা, বাট তাদের লাইফটা,লাইফস্টাইলটা বের করে আনতে পারে। সেজন্য আমার মনে হলো যে, এদের জার্নালিস্টদের থেকে অনেক ডিফারেন্ট। এবং তারা কখনো কখনো কখনো এই যে আমরা বিভিন্ন ক্যাম্পে গেলাম, মানুষের সাথে কথা বললাম, এভাবে কথা বলতে বলতে দেখা যায় ওদের যে লাইফস্টাইলটা ওখানে ছিল, ওদের একেবারে জীবনের গোঁড়া থেকে যে বিষয়গুলো, সেগুলো আমরা জানতে পারি। সো এইজন্য এটা আমার খুব ভালো লাগলো। কিন্তু এই যে গোঁড়া থেকে ওদের জীবনের যে অবস্থাটা, ওটা জানা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? এদের জীবনব্যবস্থাটা জানা আমাদের খুবই দরকার। আমি মনে করি, তারা কি অবস্থায় জীবনযাপন করেছে, আর অন‍্য দেশের মানুষগুলো কিভাবে জীবনযাপন করেছে, আপনি কি চিন্তা করতে পারেন? আমি যখন তাদের সাথে প্রথম কথা বলি, তাদের সাথে কথা বলতে বলতে প্রথম জানতে পারি তাদের কোন জাতীয়তা নেই। যদি কোন আমেরিকান নাগরিক যদি কেউ জিজ্ঞেস করে আপনার জাতীয়তা কি? সে তো বলতে পারবে সে আমেরিকান। আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে আমি বলতে পারি আমি বাংলাদেশি। তাদের যখন জিজ্ঞেস করা হয়, তাদের এই আইডেন্টিটি নাই। ওয়ার্ল্ড এর জানা উচিৎ কিছু মানুষ আছে যাদের কোন আইডেন্টিটি নাই। ইটস সো প্যাথেটিক। এদের লাইফস্টাইলটাই যদি আমি না জানি এদের বিষয়গুলো যদি আমরা না জানি, তাহলে ওয়ার্ল্ড কিভাবে তাদের ধারণাগুলো পাবে? আসলে তাদের বিষয়গুলো কিরকম হচ্ছে? তাই এদের ডিটেইলস টা জানা আমাদের খুব দরকার। আপনি সোয়াহ ফাউন্ডেশনে কাজ করা শুরু করার পরের থেকে আপনার অভিজ্ঞতা টা কি হয়েছে? আপনি ওদের জন্য কি কি কাজ করছেন এবং আপনার নিজের উপর কিরকম এফেক্ট ফেলছে? আমি যখন সোয়াহ ফাউন্ডেশনের সাথে কাজ করা শুরু করি, তখন বিভিন্ন মানুষের সাথে, বিভিন্নগ এজ এর মানুষের সাথে পারসোনালি যোগাযোগ করাটা সম্ভব হয়েছে আমার। আমি বিভিন্ন ক্যাম্প এ গিয়েছি। ছোট থেকে বড় অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি। এভাবে কথা বলতে বলতে দেখা যায় আমি হয়তোবা, এদের সাথে কাজ করতে করতে একসময় আমার মনে হলো, এদের যে কাজগুলো, এরা যে এখানে কি অবস্থায় আছে, বা কিভাবে তাদের জীবনগুলো কাটাচ্ছে, সেটা হয়তোবা আমি ভালোভাবে ধারণা পেয়েছি। আর সেই হিসেবে আমি যেটা করলাম সেটা, এখান থেকে ইন্সপায়রেশন পেয়ে এই যে সোয়াহ ফাউন্ডেশন এদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে, এদের জন্য যে বিষয় গুলো করে যাচ্ছে, সেগুলো থেকে ইন্সপায়রেশন পেয়ে আমি আমার স্টুডেন্ট দের কে নিয়ে একটা অর্গানাইজেশন করেছি অলরেডি। এটার নাম হচ্ছে ওয়াই পি ডি ইয়ুথ ফর পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। সো আই থিঙ্ক, ইয়ুথ রা যারা এখানে কাজ করছে, এরা, ইয়ুথরা অ্যাবিউজ কেন হবে? অ্যাবিউজ না হয়ে, এইযে, এদের এই কাজগুলো থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে আমি যে প্রতিষ্ঠানটা করেছি এখান থেকে এখানে অনেক ইয়ুথ রা আছে যারা কাজ করছে এখান থেকে ভলান্টিয়ার হিসেবে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে। সো আই মিন, এই যে এখানকার যে অবস্থা, ক্যাম্পের যে অবস্থা আপনি যদি চিন্তা করে দেখেন, এখানে অনেক ইয়ুথ দের কে পাবেন যারা কাজ করে যাচ্ছে। এদের কাছ থেকেই আসলে ইন্সপায়রেশন টা পাওয়া। এরা সেই আমেরিকা থেকে এসে এখানে কাজ করতে পারলে, আমি এখানে বাংলাদেশ এ থেকে কেন এই ধরনের কাজ গুলো করতে পারবোনা? এই ধরনের ইন্সপায়রেশন গুলো পাচ্ছি। তাছাড়া মনে করেন এদের সাথে কাজ করতে গিয়ে আমার আমি এদের সাথে কাজ করতে গিয়ে ইংলিশ ও শিখে যাচ্ছি। পাশাপাশি আবার যেটা হচ্ছে তা হলো ডিফারেন্ট মানুষের সাথে যখন মেশা যায়, তখন তাদের ডিফারেন্ট কালচার গুলো শেখা যায়। এই যে তাদের সাথে কিভাবে কমিউনিকেট করতে হয়, তাদের সাথে কিভাবে কাজ করে হয়, সেই জিনিস গুলো আমি শিখছি। যখন মানুষের সাথে কথা বলেন অনেক ডিটেইলস এ,টেস্টিমনি নেন, যখন ওদের কথাগুলো আপনি শুনেন, যখন তাদের অভিজ্ঞতা মায়ানমার থেকে বলে, সেটা শুনে আপনার কিরকম অনুভূতি হয়? আমি সোয়াহ ফাউন্ডেশনের সাথে কাজ করতে গিয়ে অনেকগুলো মানুষের সাথে কথা হয়েছে, আমি একটা এক্সপেরিয়েন্স আপনার সাথে শেয়ার করি, যখন, তারা মানুষের সাথে কথা বলে, তারা যখন তাদের ডিটেইলস টা বলে, তখন মাঝে মাঝে আমি নিজে নিজেই ইমোশনাল হয়ে যাই। যে তাদের অনেক, ইভেন আমি এমন একটা ছেলের সাথে কথা বলেছি, শুধু সে একজনই এখানে আছে। তার ফ্যামিলিতে ৯ জন মেম্বার ছিল, ৮ জনই মারা গেছে। তার চোখের সামনে। যখন এই জিনিসগুলো আমার মাঝে মাঝে আমার কেন যেন মনে হয় খারাপ লাগে। মাঝে মাঝে চোখের পানি চলে আসে। এই জিনিসগুলো শুনতে গিয়ে। এদের সাথে কাজ করতে গিয়ে এভাবে অনেক সময় আমি অনেকভাবে এই জিনিসগুলো আমার মধ্যে চলে আসে। মানবিকতাগুলো আমার মধ্যে চলে আসে। আসলে, আপনি কি চিন্তা করতে পারেন, যে ছেলেটার কথা বলছি আমি ওর বয়স ১৩ বছর? ১৩ বছর এর একটা ছেলে এখানে আছে, যার মা, বাবা তারপরে তার ভাই, বোন সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। এই যে এই ধরনের এক্সপেরিয়েন্সগুলো হয়েছে আমার। আবার এই ধরনের এক্সপেরিয়েন্সগুলো থেকেই আসলে মানুষের যে ইন্সপায়রেশন, এদের কাছে না আসলে আসলে এই জিনিসগুলো জানা যাবেনা। হয়তো সোয়াহ ফাউণ্ডেশনের সাথে কাজ না করলে আমি এটা জানতাম না। যে আসলে মানুষের জীবনটা ওখানে কেমন ছিল। এটাই। আপনি তো বলছিলেন যে, ওদের জীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন, এই যে সোয়াহ ফাউন্ডেশনের কাজ এই যে ওখানে যে জেনোসাইড হচ্ছে, ডকুমেন্টেশন হচ্ছে কিন্তু এই যে ওদের ডকুমেন্টেশনের প্রোজেক্ট যে, মানে কোন লাভ কি হবে বলে আপনার মনে হয়? মানে যখন পৃথিবীর কাছে ওরা দেখাতে পারবে, মায়ানমারের মানুষের জন্যই হোক, বা পৃথিবীর যেকোন জায়গায় জেনোসাইড হোক, কোন লাভ হবে কিনা এসবে? আমি মনে করি সোয়াহ ফাউণ্ডেশন যে কাজগুলো করছে, এগুলো, শুধু, মায়ানমার এর যে রাখাইন স্টেট এর মুসলিম গুলোর জন্য করছে তা না। এটা সারা পৃথিবীর, যেকোন দেশের মধ্যে হতে পারে। সবার জন্যই এটা। তারা যে কাজ গুলো করছে, আমি মনে করি এটা খুবই একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই যে মনে করেন তারা যে এ জিনিসগুলো করছে, ওয়ার্ল্ড জানতে পারবে এখানে কি হয়েছে আসলে। সারা পৃথিবীর জন্য এটা দরকার। সোয়াহ ফাউন্ডেশন যা করছে, সেই সোয়াহ ফাউণ্ডেশনের কাজগুলো আসলে পৃথিবীর জানা দরকার। কেন? তারা যে কাজগুলো এখানে এসে করছে, সেটা, এইযে, ওখানে যখন আমরা ইন্টারভিউ নিতে গেলাম, তখন দেখি, অনেকের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আবার অনেকের, সামনে বাবা মা কে রেপ করা হচ্ছে। মা কে রেপ করা হচ্ছে। ছেলের সামনে মা কে রেপ করা হচ্ছে। বাবা কে মেরে ফেলা হচ্ছে। শ্যুট করা হচ্ছে। এখানে অহরহ এখানে আপনি পাবেন। আমি ইন্টারভিউ নিতে গিয়ে এরকম অনেক কিছু দেখেছি। অনেক কিছু পেয়েছি। আমার এক্সপেরিয়েন্স থেকে আমি এটা বলছি। এই যে এই জিনিসগুলো, এখানে যেটা হয়েছে, এটার উপরে সোয়াহ ফাউন্ডেশন যেটা করছে, আমি মনে করি, পৃথিবীর জন্য এটা খুবই একটা দরকারি জিনিস। হয়তোবা, আমার মধ্যেও হতে পারে সেটা। অন্য একটা দেশেও হতে পারে। আরেকটা দেশেও হতে পারে। এতে যদি সোয়াহ ফাউন্ডেশন বা অন্য কোন অর্গানাইজেশন এই জিনিসগুলো উপস্থাপন না করে, তাহলে পৃথিবীর মানুষ জানবে কিভাবে যে আসলে এখানে কি হয়েছে? আপনি অবাক হবেন, এই যে রাখাইন স্টেট এর মধ্যে কোন ধরনের মিডিয়া, কোন ধরনের জার্নালিস্ট বা কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ঢুকতে দেয়া হয়না। সো রিয়েলিটি গুলো ওখানে জানা কখনো সম্ভব না। ইভেন আপনি, আমি নিউজপেপার বা মিডিয়ার মাধ্যমে যেটা জানতে পেরেছি, দুজন রইটার্স এর সাংবাদিককে যে অ্যারেস্ট করেছেন ওনারা, ওনারা যে তথ্যগুলো দিয়েছেন, এরকম যদি যাওয়াই হয়, তাহলে আজকে আমরা সোয়াহ ফাউন্ডেশনের সাথে যে কাজগুলো করছি সেই কাজগুলোর এক্সাক্টলি প্রমাণ ওখানে পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি। কারণ, একজন মানুষ যখন কথা বলে, তখন আসলে বোঝা যায় যে সে আসলে কি বলতে চাচ্ছে। সে যদি নিজের- এই যে তারা যে কথাগুলো বলছে, এটা কিন্তু কখনো মিথ্যা কথা হতে পারেনা। কারণ মিথ্যা কথা বললে আসলে বুঝা যায় যে সে আসলে কথাগুলো কিভাবে উপস্থাপন করছে। তারা সেটাই বলছে যেটা সেখানে হচ্ছে। আর এটা যদি সোয়াহ ফাউণ্ডেশন তুলে না ধরতো, হয়তোবা পৃথিবী জানতো ও না। এজন্য আমি মনে করি এটা খুবই দরকার। কিন্তু খবরটা কে কে পাচ্ছে সেটা তো অনেক বৃহৎ। খবরটা পাওয়ার পরে, আপনার কি মনে হয় পৃথিবী অন্যভাবে ব্যবহার করবে? মানে অন্য জায়গায় এরকম ঘটনা হবেনা বা মায়ানমার এর গভর্নমেন্ট ও এরকম কাজ করা কন্টিনিউ করবেনা, এরকম কোন বেনিফিটস আছে নাকি? আমি আশা করি, আমি খুব আশাবাদী পৃথিবী যখন এই জিনিসগুলো জানবে সোয়াহ ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে, তারা কোন একটা ইনিশিয়েটিভ নিবে। আমি সেটার প্রতি খুব বেশি আশাবাদী। আপনি যেমন মনে করেন, এদের মধ্যে যেটা হচ্ছে, এরাও তো একটা মানুষ। এদের তো একটা লাইফস্টাইল আছে, এদের তো একটা জীবন আছে। আজকে আপনি আমেরিকায় থাকেন, আপনার লাইফস্টাইল নিয়ে আপনি চিন্তা করেন। আপনার ছেলেমেয়ে নিয়ে আপনি চিন্তা করেন। ওরাও তো এরকম একটা মানুষ। এরকম একটা জাতি। তারাও যে একটা মানুষ, তারাও মানুষ হিসেবে বাঁচতে চায়, এই জিনিসগুলো আসলে, তুলে ধরাটা, এবং এই জিনিসগুলোর কারণে যে তারা এভাবে মানুষ হিসেবে বাঁচতে চায়, সে জিনিসটা যদি ওয়ার্ল্ড জানতে পারে, এই সোয়াহ ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে, তাহলে সেটা, হয়তোবা ইন ফিউচার, এই জঘন্যতম কাজগুলো হয়তো ওয়ার্ল্ড এ আর হবেনা। কারণ, এই যে এই জিনিসগুলো থেকে হয়তো মানুষজন ইন্সপায়রেশন হতে পারে। যে আসলে কেন আমরা এটা করবো? মানুষের প্রতি মানুষের যে একটা ঘৃণা, সেও তো আমার মতোই মানুষ। রক্ত মাংসে গড়া মানুষ। সো আমি যদি নিরাপদে থাকতে চাই সে কেন থাকবেনা? হয়তোবা এই ফিলিংস টা আসতে পারে। সারা পৃথিবীর মানুষের মধ্যে এই ফিলিংস টা আসতে পারে। সো এই ফিলিংসটাকেই ক্রিয়েট করা আমার মনে হচ্ছে সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট। এবং সেই অ্যাংগেল থেকেই সোয়াহ ফাউন্ডেশন কাজগুলো করে যাচ্ছে। উনি বলছেন যে, ক্যারন ২২ বছর ধরে এই কাজ করছে। এবং বার বার দেকছে। একেক জায়গার পর একেক জায়গায় জেনোসাইড হচ্ছে। হচ্ছে হচ্ছে। মানুষ মানুষকে মারছে। মানুষ মানুষের প্রতিবেশী কে মারছে। এরকম মারামারি চলতেই থাকছে, না? কিন্তু উনি এখনো বিশ্বাস করেন যে মানুষ হিসেবে আমরা যেভাবে জন্মাই, আমাদের মধ্যে এত ঘৃণা নাই। কিন্তু আমাদের শিক্ষা থেকে হোক, পরিবেশ থেকে হোক, আমাদের মধ্যে ঘৃণার জন্ম নিয়েছে। এজন্য আমরা এরকম হিংস্র হয়ে যাই। একে অপরের প্রতি। আপনার কি ধারণা, আমরা জন্ম থেকেই এত ঘৃণা নিয়ে জন্মাই? নাকি জন্মের পর এটা ওটা হয়ে আমাদেরকে শিখানো হয়? কিভাবে কি হয়? আসলে আমার মনে হয়, ক্যারন এই বিষয়টা আমার সাথেও শেয়ার করেছে। যে দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এসব ফাউন্ডেশন এর সাথে কাজ করছে। আসলে আমার মনে হয়, একটা ছেলে যখন জন্ম নেয়, সে থাকে ইনোসেন্ট। আপনি যদি চিন্তা করেন, একটা ল্যাঙ্গুয়েজ যখন আপনি লার্ন করতে যাবেন, ল্যাঙ্গুয়েজটা লার্ন করতে গিয়ে প্রথমে আপনার হয়তো এলফাবেট শেখা লাগবে বা ১, ২, ৩ এভাবে শিখবেন। ফাইনালি ৫-১০ বছর পর আপনি পুরাটা লার্ন করতে পারবেন। ঠিক বিষয়টা এরকম যে, মানুষ ঘৃণা নিয়ে জন্মায় এটা আমি বিলিভ করিনা। একটা ছেলে যখন জন্মায়, সে থাকে ইনোসেন্ট। এই ইনোসেন্ট ছেলেটাকে যে যে ইনভায়রোন্মেন্ট এ আমি বড় করবো সে সেটাই আর্ন করবে। এই যে মানুষ জন্মের পরে যেভাবে থাকে সে আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, যদি আপনি চিন্তা করেন এভাবে সে এমন একটা পরিবেশ এ বড় হলো, যে পরিবেশে দাঙ্গা, মারামারি, বিভিন্ন ধরনের ডমেস্টিক ভায়োলেন্স আছে সে কিন্তু কখনো নিজেকে এগুলো থেকে কন্ট্রোল করতে পারবেনা। এখানে হয়তোবা, অনেকগুলো আপনি দেখবেন রোহিংগা কমিউনিটি এর সাথে কাজ করতে গিয়ে আমি যেটা দেখলাম তাদের মধ্যে কিছুটা হিংস্রতা, তাদের মধ্যে কিছুটা মিথ্যা বলার প্রবণতা এগুলো আছে, কেন? এটার জন্য দায়ী মিয়ানমার গভর্নমেন্ট। কারণ আপনি তাদেরকে পড়াশুনা করতে দেন নাই। তাদের কালচার শিখতে দেন নাই। তাদেরকে মাদ্রাসায় যেতে দেন নাই। তাদের কোথাও যেতে দেন নাই। আপনি তাদের কে বাউন্ড করে রেখেছেন। একটা ব্যাঙ কে যদি গর্তের মধ্যে রেখে দেয়া হয়, তাহলে সে তো বাইরের জগৎ সম্পর্কে চিন্তা করতেই পারেনা। সেইম থিং এটাই হয়েছে, একজন মানুষ যখন জন্ম নেয়, তখন তার মধ্যে এইধরণের কোন পাপ, তার মধ্যে এই বিষয়গুলো থাকে বলে আমার মনে হয়না। সে পরিবেশ থেকেই শিখে। আপনি রোহিংগা কমিউনিটি এর বিষয়টাও এভাবে চিন্তা করতে পারেন। তারা, জন্ম নেয়ার পরে, তারা জানেনা ইভেন, এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন টা কি তারা জানেনা। সো, তাদের মধ্যে কি এরকম বিষয় নাই যে, আমি পড়াশুনা করবো, এমন করবো? এটা না পেয়ে তাদের মধ্যে এরকম বর্বরতা, হিংস্রতা এই জিনিসগুলো আস্তে আস্তে ক্রিয়েট হচ্ছে। এটা কারা করছে? এই যে, তাদের যে নেইবারস যারা আছে তাদের অপোসিট পার্টি যারা আছে, তাদের যে গভর্নমেন্ট, এরাই এগুলো করছে। কারণ আপনি, আমার বিষয়গুলো যদি আমি আপনাকে বলি, আমিতো, ক্যাম্প কি জানতাম না, যদি ক্যাম্পটা না হতো। ক্যাম্পটা কি জানতাম না যদি ক্যাম্প টা না হতো। ঠিক তেমনি, এই যে আপনি যেটা বললেন, মানুষের হিংসা, হিংসা এটা কি, যদি আমি না জানি। এটা যদি আমি ফিল করতে না পারি, তাহলে এটা তো আমার কাছে আসবেই না। এটা তো আমার এনভায়রনমেন্ট থেকেই আসছে। এটা তো আমি আমার এনভায়রনমেন্ট থেকেই শিখছি যে আসলে হিংসা টা কি জিনিস। একটা ছেলে যখন জন্ম নেয়, তখন তার মধ্যে হিংসা টা থাকেনা। সে পরিবেশ থেকে এটা শিখে। আপনি যে কথাটা বললেন, সেটা তো ভিক্টিম এর পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে, না? আমার উপর অত্যাচার হচ্ছে, তো আমার ভিতর অনেক হিংস্রতা জন্মালো আর আমি এটা আটকাতে পারলাম না। আর এটা নিয়ে আমি এভাবে জন্মাইনি। এমনিতে আমার যখন জন্ম হয়েছে, আমি সুস্থ ছিলাম। কিন্তু, অন্য দিক থেকে, ধরেন, মায়ানমার এর গভর্নমেন্ট এর দিক থেকে, এত যে হিংস্রতা আসছে, ওদের ঘৃণার এত জন্ম, আর এটা তো সিস্টেমিক। সেই সিক্সটিস থেকে এরকম করে আসছে। আরো আগে থেকে এরকম করে আসছে ওরা। ডিসক্রিমিনেট করছে। ওদের এত ঘৃণা কোথা থেকে জন্ম হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন? ওয়েল, ওদের যে ঘৃণাটা, এটা যদি আমি আপনাকে এক্সপ্লেইন করি, একটু বুঝিয়ে বলেন পুরাটা। এই যে, আসলে মিয়ানমার তাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছে ১৯৪৮ সাল থেকে। আর তখন থেকে আরাকান টা একটা রাজ্য ছিল ওদের। আরাখান, আপনি, এই যে তাদের মধ্যে আসলে, মানুষের যে একটা লোভ, লোভ বিষয়টা তাদের মধ্যে কাজ করছে। আমি এদের সাথে কথা বলে, এই কমিউনিটি এর সাথে কথা বলে যেটা জানতে পারলাম, সেটা হচ্ছে, রাখাইন স্টেট এর মধ্যে দুটা গ্রুপ আছে। একটা হলো, ওখানে দুটা মাইনরিটি গ্রুপ, দুটা বড় গ্রুপ আছে। একটা হলো রাখাইন, আরেকটা হলো মুসলিম। এরা দুজনই ওখানে স্বাধীনভাবে থাকতে চায়। সো, মিয়ানমার গভর্নমেন্ট যেটা চাচ্ছে, সেটা হচ্ছে, তারাই একমাত্র ক্ষমতার অধীন থাকবে। তাদের আন্ডার এই সব কাজগুলো চলবে। সো তারা করতে চাচ্ছে কি, এই যে, মুসলিম এবং রাখাইনদের মধ্যে যদি একটা কলিউশন ক্রিয়েট করা যায়, এই কলিউশনটার কারণের তাদের মধ্যে একটা ইন্টারনাল সমস্যা সৃষ্টি হবে। এই ইন্টারনাল সমস্যা যদি সৃষ্টি হয়, তাহলে তারা আর কখনো এই ফ্রিডম বা, তারা এই জিনিসগুলো আমাদের থেকে চাইতে পারবেনা। সো, সেই অ্যাংগেল থেকে, তাদের যে পলিটিকাল অ্যাংগেল, সেটার কারণে তারা কি করে? তাদের মধ্যে কিছু হিংস্রতা সৃষ্টি করে দেয়। যেমন, মিয়ানমার গভর্নমেন্ট অনেক সময়, অনেকগুলো রাখাইন কে হত্যা করে। এবং সেটা ছাপায় দেয়, পাবলিশ করে, মুসলমানরা করেছে। আবার মুসলিমদের মধ্যে কাউকে কাউকে মেরে ফেলার পরে, আবার বলে সেটা করেছে কারা? রাখাইনরা করেছে। সো, তাদের মধ্যে একটা ইন্টারনাল কলিউশন সৃষ্টি করে দিয়েছে। সো, এই যে দুটা জাতি, তাদের মধ্যে যে হত্যা, মারামারি, কাটাকাটি, এই জিনিসগুলোর কারণে পরস্পরের মধ্যে একটা হিংস্রতা জন্ম নিচ্ছে। এই হিংস্রতা জন্ম নেয়ার কারণের আসলে তাদের এই অবস্থা। আপনি সেটাও যদি বলেন যে, এটা কেন সৃষ্টি হচ্ছে? এটা আসলে লোভ থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে। এই যে হিংস্রতা, এই যে ঘৃণা মানুষের সেটা আসলে আমি যদি বলি একটা পলিটিকাল অ্যাঙ্গেল থেকে, পলিটিকাল অ্যাঙ্গেল থেকে এটা সৃষ্টি হচ্ছে। আবার দ্বিতীয়ত যেটা বলবো সেটা হচ্ছে, তাদের মধ্যে একটা ধর্মীয় কল্যুশন আছে। ধর্মীয় বিষয়টাও আছে সেখানে। এই দুইটা ভিউ থেকে আসলে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হচ্ছে। একটা পলিটিক্যাল অ্যাঙ্গেল, আরেকটা হচ্ছে রিলিজিয়াস ম্যাটার। এই দুটো অ্যাঙ্গেল থেকেই আসলে তাদের মধ্যে এই জিনিসগুলো ক্রিয়েট হচ্ছে। আমাদের দেশে ভারত মহাদেশ থেকে যখন ব্রিটিশরা গেছে তখন তখন কিন্তু মুসলিমদের দাঙ্গা বেধে গিয়েছিল। এমনিতে তো বলে যে মানুষ সেরা সৃষ্টি পৃথিবীর, না? কিন্তু মানুষ একমাত্র জন্তু, যে এরকম ঘটনা ঘটায়। বানররা মারামারি করে, খাবারের জন্যে, বা জায়গার জন্যে বা গাছের সব জন্তু জানোয়ারের জন্যে। কিন্তু মানুষ এভাবে ঘৃণা করে একে অপরকে একদম মিশিয়ে ফেলতে চায়। আপনার কি মনে হয়, এটা কোনদিন বন্ধ হবে? আমার যেটুকু মনে হয় আসলে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। এই যে, দুর্ভাগ্য হচ্ছে, আসলে মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বলা হয়েছে আমার যে চিন্তা করার ক্ষমতা আছে, আমি যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি। কিন্তু, আসলে আমার মনে হয় সেটা আমি, পৃথিবীর ইতিহাস যদি আপনি চিন্তা করেন, মানুষ সেই থেকে এখনো পর্যন্ত সেই কল্যুশন গুলো করে যাচ্ছে। সেই দাঙ্গা হাঙ্গামাগুলো করে যাচ্ছে। এখনো এগুলো বন্ধ হয়নি। আমার মনে হয় সেগুলো বন্ধ হবেনা। কারণ, আপনি যদি চিন্তা করেন, এই যে, নিউটনের একটা সূত্র আমার মনে আছে। সমপরিমাণ যেখানে ভালো মানুষ আছে, সমপরিমাণ সেখানে খারাপ মানুষ আছে। সো, আমার হয়তো খারাপ মানুষগুলোকে একদম মেরে ফেলতে হবে। আবার ভালো মানুষ গুলোকে মেরে ফেলতে হবে। এই যে, এই জিনিসগুলো থাকবে। এই জিনিসগুলো থাকবে। আমার মনে হয়না পৃথিবী থেকে সেগুলো যাবে। কারণ আপনি পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে এখনো পর্যন্ত আপনি চিন্তা করেন। এই জিনিসটা বদলায়নি। বরং, বৃদ্ধি পেয়েছে। বরং, আরো বাড়বে। এই যে, আপনি চিন্তা করেন। বড় বড় কান্ট্রিগুলোর কথা চিন্তা করেন। তারা, নিউক্লিয়ার পারমানবিক বোমা বানাচ্ছে। আপনারা যদি শান্তি চান এগুলো কেন করছেন? পারমাণবিক অস্ত্র কার জন্যে? আপনি কি বাঘ ভাল্লুক কে মারবেন? আপনি কি বনজঙ্গলে মারবেন? আপনি কি সামুদ্রিক প্রাণি মারার জন্য করছেন? এটাও তো আমাদের ইকো সিস্টেম এর জন্য দরকার। আপনি কেন সেটা করছেন? আপনার পাওয়ার বাড়ানোর জন্যে। সো যেখানে ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স যেখানে চিন্তা করে আসলে আমার পাওয়ার দরকার। আমি আরেকটা দেশ কে কি করবো ঘায়েল করবো। আরেকটা দেশ আমার সাথে পারবেনা। সো আপনি ইন্টারন্যাশনালি জিনিসগুলো যদি চিন্তা করেন প্রত্যেকটা দেশ চায় তাদের পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর জন্য, তাদের অস্ত্র মজুদ করার জন্য। এই জিনিসগুলো আসলে তারা সেই অ্যাঙ্গেল থেকে চাচ্ছে। এটা তো আমাদের উপরে যারা বসে আছেন ওরাও তো চায়না যে পৃথিবীতে শান্তি হোক। সো, আমার মনে হয়না শান্তিটা হবে। এবং সেটা চলতে থাকবে। তারপরেও আমাদের যে বিষয়টা, আমি একজন মানুষ হিসেবে যেটা বলতে চাই, আমার হয়তো বা মানুষের চেঞ্জ চলে আসবে একসময়। যখন মানুষ এভাবে প্রব্লেম এর শিকার হতে হতে একসময় এই সমস্যাগুলো হয়তোবা হতে পারে, বাট এটা কখনো সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হবেনা। আপনি যদি আমেরিকার কথা চিন্তা করেন, আমেরিকা ১৭৭৬ সালে মেবি স্বাধীন হয়েছে। সেই তখন থেকে তাদের মধ্যে অনেকগুলো সিভিল ওয়ার হয়েছে। হতে হতে মারামারি হতে হতে তারা এই পর্যায়ে এসেছে। এখনো কিন্তু আমেরিকা এত বেশি সেইফ না। ঠিক, সিমিলারলি, ওয়ার্ল্ড এর যে কান্ট্রি, সেগুলোর কথা যদি আপনি চিন্তা করেন প্রত্যেক জায়গায় এ জিনিসগুলো আছে। আবার আপনি যদি পলিটিকাল লিডার দের কথা বলেন, যারা বিভিন্ন দেশ এর প্রধান আছেন, ওনারাও তো চায়না যে আসলে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য চায় এরা। এই যে এই জিনিসগুলো, এই লোভগুলো, পৃথিবীকে চেঞ্জ হতে দিবেনা। কারণ আমাদের এখানে গ্রিডিনেস কাজ করে। আমাদের এখানে আত্মমর্যাদা কাজ করে। আমি মনে করি আমি পারমাণবিক অস্ত্র বানালাম, আমার মধ্যে পাওয়ার চলে আসলো। মানে আমি আত্মমর্যাদাশীল। এরকম মনে করে মানুষ। এই জিনিসগুলো যদি চেঞ্জ না হয় মানুষের তাহলে কখনো সেটা সম্ভব না। এখানে রোহিঙ্গা মানুষরা যেভাবে থাকে, আপনি তো অনেক কিছু দেখেছেন। তো সে ব্যাপারে আপনার কি ধারণা? যদি কোন এক্সাম্পল শেয়ার করতে পারেন। আর ওদের ভবিষ্যৎ কি? আপনার মতে। রোহিঙ্গাদের জীবন সম্পর্কে ক্যাম্প এ যদি আমি বলতে যাই, আমি তো ২৫ আগস্ট থেকে এখানে কাজ করেছি। আপনি, প্রথম দিকে যে অবস্থা ছিল তাদের রোড গার্ডের পাশে, তারা ইভেন বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে জীবনযাপন করেছে। এবং মানুষ যা দিয়েছে সেখান থেকে খাবার কালেক্ট করে খেয়েছে। আপনি যদি এখনের কথা বলেন, ইভেন, গতকালকে আমি যখন ক্যাম্প এ আসি, ১২ টার দিকে আমি ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্যে চেষ্টা করেছি। টয়লেটে যাওয়ার সময়, আমি ওখানে যাওয়ার পরে, আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা আসলে ওখানে ইউজ করা যায়না এমন অবস্থা। এবং প্রত্যেকটা জায়গায় এরকম অবস্থা। মানুষ এখানে কি পরিমাণ কষ্টে আছে। সেটা হয়তো এখন আমার ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা। ইভেন, আমি একজন মানুষ। এবং আমি যদি সেই জিনিসটা কম্ফরটেবল ফিল না করি, তারাও তো মানুষ। তারা কিভাবে করছে? এই সিচুয়েশনগুলো বলা আসলে খুব কঠিন হয়ে যায় আমার জন্য। আবার আপনি যদি চিন্তা করেন, এখন যে পরিমাণ তাপমাত্রা, এখন একটা পলিথিনের নিচে, মাটির মধ্যে, চারদিকে কয়েকটা পলিথিন দিয়ে, জীবনটা তারা কাটাচ্ছে। আমি যদি ইন্ডেপেন্ডেন্ট হতাম, আমার যদি টাকা পয়সা থাকতো, আমি কিছু কিনে এনে খেতে পারবো। বাট তারা ওরকম না। তারা হয়তোবা কারো কাছ থেকে চাল পাচ্ছে কারো কাছ থেকে ডাল পাচ্ছে, এই জিনিসগুলো দিয়ে তাদের চলছে। মানুষের তো বিভিন্ন টেস্ট হতেই পারে। কিন্তু তাদের যে জীবনটা, না পারছে তারা মরে যেতে, কোনভাবে সারভাইভ করছে। আমি তাদের লাইফস্টাইলটা যেভাবে দেখলাম। আর আপনি, আর আপনি কখনো চিন্তা করতে পারবেন না, যে এখানে কি পরিমাণ তাপমাত্রা এখন। ওখানে যখন আমরা ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য ঘরের মধ্যে ঢুকি, তখন, আমরা হয়তো ওখানে ৩ ঘন্টা, ৪ ঘন্টা স্টে করি। কিন্তু তাদের ২৪ ঘন্টা স্টে করতে হচ্ছে। এই ৩-৪ ঘন্টার মধ্যে আমাদের যে অবস্থা হয়ে যায়, কিন্তু ওদের কথা যদি আপনি চিন্তা করেন ২৪ ঘন্টা ওদের এখানে থাকতে হচ্ছে এই যে এই পরিস্থিতিগুলো আসলে একজন মানুষ হিসেবে আমি আমার অ্যাঙ্গেল থেকে যেটা চিন্তা করি, এটা খুব অসহনীয় একটা ব্যাপার। আর আপনি আরেকটা জিনিস চিন্তা করেন তাদের যে একটা ক্যাম্প, এটা ছিল একতা বনজঙ্গল। আর সে বনজঙ্গলটা এখন মানুষের জন্য বসবাসের জায়গা হয়ে গেছে। ইভেন আপনি কখনো কল্পনা করতে পারবেন না এখানে অনেকগুলো ডমেস্টিক এনিমেল হাতির কথা যদি বলি, এই জায়গাটা ছিল আসলে হাতির জায়গা। এখানে অনেক সময় হাতি চলে আসে। ইভেন এখানে ১০ থেকে ১২ জনের মতো মারা গেছে এই হাতির কারণে। আপনি চিন্তা করতে পারেন যেখানে হাতি থাকে ওখানে মানুষ থাকতে হচ্ছে। এটা আপনি কল্পনাই করতে পারবেন না। এখানে কি পরিমাণ তারা কষ্টে আছে। আর আরেকটা কথা আমি আপনাদেরকে বলে রাখি এখন হয়তো তারা অনেকটা কষ্ট করে হলেও আছে। বাট যখন মুনসুন শুরু হবে, যখন বৃষ্টি শুরু হবে, এখানে হাটাই যাবেনা। আপনারা যেহেতু ক্যাম্পে এসেছেন, ক্যাম্পের যে রাস্তাঘাট গুলো আপনারা দেখেছেন। এই যে এই রাস্তাঘাট গুলো আপনি কি মনে করেন যে যখন বৃষ্টি হবে এখানে হাটাচলা করা যাবে? আর এখানে ক্যাম্পে যখন আমি ঘুরেছি দেখলাম, অধিকাংশ তাদের ড্রিংকিং টিউবয়েল ওয়াটারগুলো ওয়াটারের যে টিউবয়েলগুলো সেটাপ করা হয়েছে নিচু লেভেলে। নিচু জায়গায়। এই যে নিচু জায়গার মধ্যে যখন বৃষ্টি হবে ওখানে ফ্লাড এর পানিগুলো চলে আসবে। বন্যার পানি চলে আসবে। এদের পানির অভাবে কি পরিমাণ সমস্যা হতে পারে আপনি চিন্তা করেন। এখানে পরিবেশটা একেবারে নোংরা হয়ে গেছে। যেদিকে যাবেন সেদিকে দুর্গন্ধ। এই যে এই অবস্থায় তারা থাকছে। এখানে আমার মনে হয়না তারা ভালো অবস্থায় আছে। কিন্তু তাদের করার কিছুই নেই। থাকতেই হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনি কি মনে করেন? রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ যদি আমি বলি, সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশের গভর্নমেন্ট এবং মিয়ানমার গভর্নমেন্ট মিলে একটা চুক্তি করেছে যে তাদের রিপ্যাট্রিয়েশন করবে। সেটা ছিল জানুয়ারির ২৩ তারিখ। কিন্তু আমি জানিনা সেটা কোন জানুয়ারি। এটা কি ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ না ২০৫০, কোন জানুয়ারি আমি জানিনা। সেটা কি হবে কিনা। সো তাদের ফিউচার যদি বলেন, তাদের ফিউচারটা হচ্ছে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুনা। আপনি, আমার বাচ্চা হলে আমি চিন্তা করবো সবসময় যে আমার বাচ্চাকে কোন একটা জায়গায় পড়াবো। কোন একটা জায়গায় নিয়ে যাবো। তার বিষয়গুলো আমি চিন্তা করবো। স্বাভাবিক। কিন্তু রোহিঙ্গা ছেলেদের জন্য এখানে তাদের মা বাবা যা চিন্তা করতে পারবে সেটা ওইটুকু করতে পারবে যে, এইখানে গিয়ে একটা অ্যালফাবেট শিখানোর মতো, হয়তো একটা কুঁড়েঘর এর মধ্যে গিয়ে কোনরকম সে এ বি সি ডি এরকম শিখতে পারবে এরকম একটা পরিবেশ হয়তো তারা পাচ্ছে এখানে। কিন্তু, এদের এটা তো একটা মানুষের ফিউচার হতে পারেনা। শুধু আই জাস্ট লার্নড অ্যালফাবেট নাথিং এলস। এটা তো একটা মানুষের ফিউচার হতে পারেনা। আমার ফিউচার, আমি একটা ভালো ডাক্তার হবো, ইঞ্জিনিয়ার হবো, আমি একটা ভালো প্রফেশনে যাবো। কিন্তু সেটা তো তাদের পক্ষে সম্ভব না। কারণ তাদের মধ্যে এখানে কোন স্কুল নাই, তাদের জন্য, আপনি দেখতেই পাচ্ছেন ক্যাম্পের মধ্যে কি অবস্থা। এবং, তারা একটা নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ আছে। এর বাইরে তারা যেতে পারবেনা। সো এই রিপ্যাট্রিয়েশনটা হলেও, তাদেরকে যদি সেখানে নিয়েও যায়, তারপরেও তাদের ভবিষ্যৎ টা অন্ধকার। কারণ তারা পড়াশুনা করতে পারবেনা। আমার মনে হয় তারা যেটা করতেসে সেটা জেনোসাইড। বাট, তাদের যে কালচার নষ্ট করে দেয়া, তাদেরকে পড়াশুনা করতে না দেয়া, তাদের মেয়েদেরকে তেমন একটা পড়াশুনার সুযোগ না দেয়া, এই জিনিসটা, জেনোসাইডের পাশাপাশি, তাদেরকে ধ্বংস করার একটা মাস্টার প্ল্যান বলে আমার মনে হয়। কারণ, একটা কম্যুনিটিকে আপনি যদি পড়াশুনা করতে না দেন, তাহলে তাদের, ইভেন, নভেম্বরের প্রথম যখন আমি সোয়াহ ফাউন্ডেশনের সাথে কাজ শুরু করি তখন, স্টিভেন স্মিথ এর সাথে আমি কাজ শুরু করেছি। সোয়াহ ফাউন্ডেশনের। উনি এক রোহিঙ্গা ভাই কে জিজ্ঞেস করলো, আপনার ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনি কি চিন্তা করেন? তখন তার উত্তর টা শুনে আমি অবাক হয়ে গিয়েছি। আসলে ফিউচার জিনিসটা কি আমাদের কোন ধারণাই নেই। রোহিঙ্গা কমিউনিটি এর একজন মানুষ বলছে, ভবিষ্যৎ কি আমি সেটা জানিনা। আপনি কি চিন্তা করতে পারেন, যে মানুষটা ভবিষ্যৎ কি সে জিনিসিটা বুঝেনা, শব্দটা বুঝেনা। তাহলে যার মধ্যে এই শব্দটার অর্থ নাই, তাহলে আপনি তাদের ভবিষ্যৎ কি চিন্তা করবেন? এর কারণটা হচ্ছে তারা পড়াশুনা করতে পারেনি। কোন একটা ভালো প্লেসে যেতে পারেনি। তারা এমন ভাবে থেকেছে, একটা ব্যাঙকে চারিদিকে গর্ত করে ওখানেই রাখা হয়েছে। অ্যাকুরিয়ামের মাছ এর মতো। ওরা অ্যাকুরিয়ামের মাছ এর মতো ছিল। জাস্ট খাদ্য পেয়েছে, ঘুমিয়েছে, খেয়েছে এটাই হচ্ছে তাদের জীবন। এবং ওই মানুষটাকে যখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, তার ভবিষ্যৎ কি? সে বললো, আমরা কিছু চাল পেলে ভালো, এটা খেয়ে কোনরকম জীবনযাপন করবো। এটাই তার ছেলের ভবিষ্যৎ। সো, এদের ভবিষ্যৎ টা খুবই অন্ধকার। আমি, এমন কোন প্রশ্ন কি আছে, যা আপনাকে জিজ্ঞেস করিনি? বা আপনার কোন অভিজ্ঞতার কথা কি বলতে চান আমাদেরকে? আসলে আপনি আমার থেকে সবগুলোই জিজ্ঞেস করেছেন। বাট, এই যে এই রোহিঙ্গাগুলো যখন, আমিতো সোয়াহ ফাউন্ডেশনের সাথে কাজ শুরু করেছি নভেম্বর থেকে। আমি, এই যে রোহিঙ্গা কমিউনিটি যখন প্রথম এখানে এসেছে, আসলে এখানে কোন ক্যাম্প ছিলনা। এখানে ক্যাম্প ছিল শুধুমাত্র ওই কুতুপালং, আর এখন আপনি দেখবেন সেই কুতুপালং থেকে এই যে অনেক বড় একটা এরিয়া ক্যাম্প হয়ে গেছে। এই যে, এই ক্যাম্প, এই ক্যাম্পটার মধ্যে, এইগুলো এখন সবগুলো নতুন সেটেলমেন্ট। এখানে যেগুলো হয়েছে। মানে, এই যে এই নতুন সেটেলমেন্টটা করতে গিয়ে, বাংলাদেশ এর কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা, আওনি আমার কাছ থেকে এই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করেন নি। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে যেটা বলতে চাই সেটা হচ্ছে,, এটা, জায়গাটা সম্পর্কে আমার ধারণা নেই বাট, এটা কত বড় হতে পারে আপনি চিন্তা করেন। এই পুরো জায়গাটা ছিল একটা বনজঙ্গল। এটা ১ মাসের মধ্যে উজার হয়ে গেছে। তাদের বাসস্থান এর জন্য। এই যে এত বড় একটা জায়গা, এটা আসলে আপনি, যদি ন্যাচারাল দিক দিয়ে চিন্তা করেন এটা আমাদের পরিবেশের জন্য অনেক ক্ষতি। বাট, ওখানে রাখাইন স্টেট এর মধ্যে তারা যেখানে ছিল, সেখান থেকে তারা এখানে চলে এসেছে। আমার কথা হলো, এই যে এরা এখানে এসেছে, বাংলাদেশ এর কোন ক্ষতি হচ্ছে কিনা? আমার মনে হয় বাংলাদেশ এর কিছু ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি, আমি যেটা বলবো, একজন মানুষ হিসেবে, একজন বাঙালি হিসেবে আমি গর্ববোধ করি যে আমরা আসলে কিছু মানুষকে অন্তত তাদের জীবনটা বাঁচানোর জন্য ঠাই দিতে পেরেছি। সো, হিউম্যানিটরিয়ান অ্যাঙ্গেল থেকে যদি আমি বলি, বাঙালি হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। কারণ কিছু মানুষকে আমি এখানে জায়গা দিতে পেরেছি। আর তারা যে কোনরকম আমি অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করেছি যে, এই যে এই মানুষগুলোর এখানে কেমন লাগছে? বলছে, এখানে তো তাও আমি বেঁচে আছি। যদিওবা পরিবেশের কিছু ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু তাদের তো জীবনটা বাঁচলো। এই জিনিসটা আমি ফিল করি। আবার, সারা ওয়ার্ল্ড এর জন্য আমার একটা ম্যাসেজ, আমার অর্গানাইজেশন থেকে একটা মেসেজ আমি বলতে চাই, সেটা হচ্ছে, আসলে আমাদের চিন্তার পরিবর্তন দরকার। আমরা যে চিন্তা করি, রিলিজিয়াস অ্যাঙ্গেল থেকে চিন্তা না করে, মানবিক দিক দিয়ে চিন্তা করা দরকার মানুষের। আসলে এরাও মানুষ। এরাও বাঁচতে চায়। এরাও নিজেদের একটা আইডেন্টিফিকেশন চায়। যে, আমি বাঙালি আমি বাংলাদেশি আমার পরিচয়, আমার জাতীয়তা বাংলাদেশি। এরা মিয়ানমার এর নাগরিক। তাদের পরিচয় হবে মিয়ানমার এর নাগরিক। আমি এই যে এই মেসেজটা পৃথিবীর কাছে পাঠাতে চাই যে, এই যে, পৃথিবীর প্রত্যেকটা জাতির যদি জাতীয়তা থাকে এদের কেন থাকবেনা? সো, সারা পৃথিবীর এদেরকে নিয়ে একটু চিন্তা করা দরকার। আচ্ছা আপনি যে রিপ্যাট্রিয়েশন এর কথা বললেন, যে বাংলাদেশ এবং মায়ানমার গভর্নমেন্ট ঠিক করেছে এটা, আপনার কি মনে হয় সেটা ভালো আইডিয়া? নাকি, অন্য একটা এখানে ইন্ট্রোভার্সিয়াল কোন একটা বাংলাদেশি হিসেবে ন্যাচারালাইজ করার কোন একটা ইস্যু? আসলে এই যে রিপ্যাট্রিয়েশনের যে চুক্তিটা করলো, আমি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যদি চিন্তা করি, রিপ্যাট্রিয়েশনের যে চুক্তিটা , কারা করেছে? বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট, মিয়ানমার গভর্নমেন্ট। এখানে বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন করা হবে ওখানে বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট যাবে? আর মিয়ানমার গভর্নমেন্ট এখানে আসবে। আমি এই জিনিসটা জাস্ট আমার অ্যাঙ্গেল থেকে বলছি। আমি যাদের রিপ্যাট্রিয়েশন করবো তাদের প্রতিনিধি আমার দরকার। চুক্তিটা করার সময়, আসলে রোহিঙ্গা কমিউনিটি এর কাউকে ওখানে দরকার ছিল। আর ওখানে যে রাখাইনদের মধ্যে প্রব্লেম হতো তাদের কিছু প্রতিনিধি দরকার ছিল। এদের মধ্যে, বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট, মিয়ানমার গভর্নমেন্ট, তাদের রাখাইন কমিউনিটি রোহিঙ্গা মুসলিম কমিউনিটি এর লিডার দের নিয়ে, তাদের চুক্তি টা করা উচিত ছিল। এই যে এই রি প্যাট্রিয়েশনটা, যেটা হলো, সেটা আমার মনে হয় নামে মাত্র রিপ্যাট্রিয়েশনের চুক্তি। এটা আমার মনে হয়না আসলে কখনো আমাদের গভর্নমেন্ট বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট স্টার্ট করতে পারবে। আমি হয়তোবা সেটা জানিনা। কিন্তু আমার গভর্নমেন্ট চেষ্টা করছে। আপনি দেখেন, বাংলাদেশি গভর্নমেন্ট এর কথা যদি বলেন, আমরাও তো একটা ক্রাইসিস এর মোমেন্ট এ আছি। আমাদের অনেক বেশি জনসংখ্যা। আমাদের আনেমপ্লয়মেন্ট এর যে প্রব্লেমটা অনেক বেশি। আমাদের দেখেও কিন্তু অনেকগুলো সমস্যা আছে। হঠাৎ করে অনেকগুলো লোক এখানে চলে আসা, মোর দ্যান হান্ড্রেড থাউস্যান্ড, এই রিপ্যাট্রিয়েশনটা আমাদের জন্য আসলে দরকার। বাট, এদেরকে যেমন তেমন ভাবে রিপ্যাট্রিয়েশনটা করাও যাবেনা। কারণ তাদেরকে এখানে একবার নিয়ে গেলো। আরেকবার আসলো, এরা তো কোন ফুটবল না যে তাদেরকে আমি কিক করলাম চলে যাবে, আবার তাকে কিক করলে এখানে চলে আসবে। ওরকম না তো। এই রোহিঙ্গা কমিউনিটিটা আসলে ফুটবলের মতো হয়য়ে গেছে। আমার এক্সপেরিয়েন্স থেকে আমি যেটা দেখলাম, এরা এখানে ১৯৭৮ সালে একবার এসেছে। ১৯৯২ তে এসেছে। ২০১২ তে এসেছে, ২০১৬ তে এসেছে, ২০১৭ তে এসেছে। আবার যাচ্ছে, আসছে। এই যে এগুলো কেন হচ্ছে? রিপ্যাট্রিয়েশন করতে হলে তাদেরকে রিপ্যাট্রিয়েশনের মতো করেই করতে হবে। এই যে রিপ্যাট্রিয়েশনটা আমার হয়তোবা একটু সময় নিবে, কিন্তু তাদের অধিকারগুলো থাকার মত। একজন মানুষ হিসেবে সেখানে গিয়ে বাঁচতে পারার মতো রিপ্যাট্রিয়েশনটা যদি করা যায়, তাহলে সেটাই মঙ্গল। তো এখানে আমাদের বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের জনগণের প্রব্লেম হচ্ছে, সত্যি কথা, কিন্তু কিছু কিছু মানুষ এখানে ৪-৫ বছর বয়সে এসেছে। ২৫ বছর ধরে এখানে আছে। বা এখানে জন্ম হয়েছে, এখন তার ২৫ বছর বয়স। আপনার কি মনে হয়না, তাদের বাংলাদেশি হয়য়ে যাওয়ার অধিকার আছে? এই পর্যায়ে? আপনি দেখবেন, অনেক মানুষ এখানে হয়তোবা, ৫ বছর, ২ বছর এই অবস্থায় এসেছে। এখন তার বয়স হয়ে গেছে থার্টি প্লাস। আসলে তারা এখানে এসেছে, সেটা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। আমরা তাদেরকে এক্সপেক্ট করিনি। তারা এখানে চলে আসুক সেটা তো আমরা চাইনাই। কারণ আমার দেশ এর যে অবস্থা, অন্য একটা দেশকে সাপোর্ট দেয়াটা আমার জন্য একটু কঠিন হয়য়ে যায়। তারা যদি এখানে চলে আসে, তাদেরকে যদি আপনি নাগরিকের কথা বলেন, বাংলাদেশি আইডেন্টিটি যদি দিতে বলেন, সেটা অবশ্যই আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। কারণ, ওখান থেকে আসার পরে, ওই যে ৫ বছর বাচ্চা থাকা অবস্থায় সে এসেছে, তাকে আমরা একটা নির্দিষ্ট এনভায়রন্মেন্ট দিয়ে দিয়েছি। ক্যাম্প করে দিয়েছি। আমরা তো তাকে দেশ এর অভ্যন্তরে বা কাজ করার জন্য বিষয়টা হয়নি এরকম। আর আপনি চিন্তা করে দেখেন এদের যে, এদের যে সংখ্যাটা, অফিসিয়ালি বলছে হান্ড্রেড থাউজ্যান্ড। আপনি যদি ক্যাম্প এর কথা চিন্তা করেন, এটা মোর দ্যান ওয়ান হান্ড্রেড ফিফটি থাউজ্যান্ড। আমার মনে হয় অফিসিয়াল যে সংখ্যাটা, তারা তাদের অ্যাঙ্গেল থেক বলেছে কিন্তু এখানে আরো অনেক বেশি লোক এসেছে। এদের নাগরিকত্ব যদি বাংলাদেশ দিতে চায়, কেন দিবে? তাদের তো আইডেন্টিটি আছে। তাদের কি মনে হয়না যে আমি আমার দেশ এ চলে যাবো? তাদের তো একটা ফিলিংস আসে। আমি অনেকের সাথে কথা বলেছি যারা এখানে দীর্ঘ ২৫ বছর বা ৩০ বছর যাবৎ পর্যন্ত আছে। আপনি যখন আমেরিকায় গিয়ে আমেরিকার নাগরিকত্ব পাবেন, তারপরও তারপরও আপনার ফিল হবে আমার দেশ এর যে জিনিসটা। সে এখানে নাগরিকত্ব দিলেও আমার সরকার কিন্তু তার মধ্যে যে একটা ফিলিংস, যে আমারো একটা দেশ আছে। সেই জিনিসটা সে ফিল করবে। ওটাই। আবার এখানে তারা একটা নির্দিষ্ট জায়গায় থাকছে, আর আমাদের দেশে দেখেন অনেকগুলো সমস্যা আছে আমাদের। হয়তো আমরাও এতবেশি অ্যাডভান্স হতে পারিনি। এই অবস্থায় যদি তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হয়, তাহলে সেটা আমার দেশ এর জন্য বোঝা হয়ে যাবে।

Video Details

Duration: 47 minutes and 41 seconds
Country:
Language: English
License: Dotsub - Standard License
Genre: None
Views: 1
Posted by: rehanap on Aug 16, 2018

Caption and Translate

    Sign In/Register for Dotsub above to caption this video.